মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

ভূমি ভিষয়ক তথ্য ও ফরম

ভূমি বিষয়ক তথ্য ও ফরম

খতিয়ানঃমৌজা ভিত্তিক এক বা একাধিক ভূমি মালিকের ভূ-সম্পত্তির বিবরণ সহ যে ভূমি রেকর্ড জরিপ কালে প্রস্তুত করা হয় তাকে খতিয়ান বলে।

সি.এস. রেকর্ডঃআমাদের দেশে জেরা ভিত্তিক প্রথম যে নকশা ও ভূমি রেকডৃ প্রস্তুত করা হয় তাকে সি,এস. রেকর্ড বলে।

এস.এ. খতিয়ানঃসরকার কর্তৃক ১৯৫০ সনে জমিদারী অধিগ্রহন ও প্রজাস্বত্ব আইন জারি করার পর যে খতিয়ান প্রস্তুত করা হয় তাকে এস.এ. খতিয়ান বলে।

নাম জারীঃউত্তরাধিকার বা ক্রয় সূত্রে বা অন্য কোন প্রক্রিয়ায়  কোন জমিতে কেউ নতুন মালিক হলে তার নাম খতিয়ানভুক্ত করার প্রক্রিয়াকে নাম জারী বলে।

জমা খারীজঃজমা খারীজ অর্থ যৌথ জমা বিভক্ত করে আলাদা করে নতুন খতিয়ান সৃষ্টি করা।প্রজার কোন জোতে কোন জমি হস্তান্তর বা বন্টনের কারনে মূল খতিয়ান থেকে কিছু জমি নিয়ে নতুন্ জোত বা খতিয়ান খোলাকে জমা খারিজ বলে।

পর্চাঃভূমি জরিপ কালে প্রস্তুতকৃত খতিয়ান যে অনুলিপিতস দিক বা সত্যায়রননের পূরবে মালিকের নিকট বিলি করা হয়। তাকে মাঠ পর্চা বলে।রাজস্ব অফিসার কর্তৃক পর্চা সত্যায়িত তসদিক হ্ওয়ার পর আপত্তি এবং আপিল শোনানীর শেষে খতিয়ান চুড়ান্ত ভাবে প্রকাশিত হওয়ার পর ইহার অনুলিপিকে পর্চা বলে।

 

তফসিলঃতফসিল অর্থ জমির পরিচিতি মূলক বিস্তারিত বিবরন। কোন জমির পরিচয় প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট মৌজার নাম, খতিয়ান নং, দাগ নং, জমির চৌহদ্দি, জমির পরিমান ইত্যাদি তথ্যাদি সমৃদ্ধ বিবরনকে তফসিল বলে।

মৌজাঃক্যাডষ্টাল জরিপের সময় প্রতি খানা এলাকাকে অনেকগুলো এককে বিভক্ত করে প্রত্যেকটি একক এর ক্রমিক নং দিয়ে চিহ্নিত করে জরিপ করা হয়েছে। খানা এলাকার এরূপ প্রত্যেকটি একককে মৌজা বলে। এক বা একাধিক গ্রাম বা পাড়া নিয়ে একটি মৌজা গঠিত হয়।

খাজনাঃভূমি ব্যবহারের জন্য প্রজার নিকট থেকে সরকার বার্ষিক ভিত্তিতে যে ভূমি কর আদায় করে তাকে ভূমির খাজনা বলে।

ওয়াকফঃইসলামী বিধান মোতাবেক মুসলিম ভূমি মালিক কতৃর্ক ধর্মীয় বা সমাজ কল্যানমূলক কাজে ব্যয়ভার বহন করার উদ্দেশ্যে কোন সম্পত্তি দান করাকে ওয়াকফ বলে।

মোতওয়াললীঃওয়াকফ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা যিনি করেন তাকে মোতওয়ালরী বলে।

ওয়ারিশঃওয়ারিশ অর্থ ধর্মীয় বিধান মোতাবেক উত্তরাধকারী। কোন ব্যক্তি উইল না করে মৃত্যুবরন করলে আইনের বিধান অনুযায়ী তার স্ত্রী, সন্তান বা নিকট আত্নীয়দের মধ্যে যারা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে মালিক হন এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গকে ওয়ারিশ বলে।

ফারায়েজঃইসলামী বিধান মেতাবেক মৃত ব্যক্তির সম্পত্তি বন্টন নিয়মকে ফারায়েজ বলে।

খাস জমিঃভূমি মন্ত্রনালেয়ের আওতাধীন যে জমি সরকারের পক্ষে কালেক্টর তত্ত্বাবধান করেন এমন জমিকে খাস জমি বলে।

কবুলিয়তঃসরকার কর্তৃক কৃষি জমি বন্দোবস্তো দেওয়ার প্রস্তাব প্রজা কর্তৃক গ্রহন করে খাজনা প্রদানের যে অংগিকারপত্র দেওয়া হয় তাকে কবুলিয়ত বলে।

দাগ নংমৌজায় প্রত্যেক ভূমি মালিকের জমি আলাদাভাবে বা জমির শ্রেনী ভিত্তিক প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করার লক্ষে সিমানা খুটি বা আইল দিয়ে স্বরজমিনে আলাদাভাবে প্রদর্শন করা হয়।মৌজা নক্সায় প্রত্যেকটি ভূমি খন্ডকে ক্রমিক নম্বর দিয়ে জমি চিহ্নিত বা সনাক্ত করার  লক্ষে প্রদত্ব নাম্বারকে দাগ নাম্বার বলে।

ছুট দাগঃভূমি জরিপের প্রাথিমিক পয্যয়ে নক্সা প্রস্তুত বা সংশোধনের সময় নক্সার প্রত্যেকটি ভূ-খন্ডের ক্রমিক নাম্বার দেওয়ার সময় যে ক্রমিক নাম্বার ভূলক্রমে বাদ পড়ে যায় অথবা প্রাথমিক পয্যয়ের পরে দুটি ভূমি খন্ড একত্রিত হওযার কারনে যে ক্রমিক নম্বর বাদ দিতে হয় তাকে ছুট দাগ বলে।

চান্দিনা ভিটিঃহাট-বাজারের স্থায়ী বা অস্থায়ী দোকান অংশের কৃষি প্রজা স্বত্ত্ব এলাকাকে চান্দিনা ভিটি বলে।

অগ্রক্রয়াধিকারঃঅগ্রক্রয়াধিকার অর্থ সম্পত্তি ক্রয় করার ক্ষেত্রে আইনানুগভাবে অন্যান্য ক্রেতার তুলনায় ‌অগ্রাধিকার প্রাপ্যতার বিধান। কোন কৃষি জমির মালিক বা অংশীদার আগন্তকের নিকট তার অংশ বা জমি বিক্রির মাধ্যমে হস্তান্তর করলে অন্য অংশীদার কর্তৃক দলিলে বর্নিত মূল্য সহ অতিরিক্ত ১০% অর্থ বিক্রি বা অবহিত হওয়ার ৪ মাসের মধ্যে আদালতে জমা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে জমি ক্রয় করার আইনানুগ অধিকারকে অগ্রক্রয়াধিকার বলে।

আমিনঃভূমি জরিপের মাধ্যমে নক্সা ও খতিয়ান প্রস্তুত ও জমি জরিপ কাজে নিযুক্ত কর্মচারীকে আমিন বলা হত।

সিকস্তিঃনদী ভাঙ্গনে জমি পানিতে বিলীন হয়ে যাওয়াকে সিকস্তি বলা হয়্। সিকস্তি জমি ৩০ বছরের মধ্যে স্ব-স্থানে পয়স্তি হলে সিকস্তি হওয়ার প্রাককালে যিনি ভূমি মালিক ছিলেন, তিনি বা তাহার উত্তরাধিকারগন উক্ত জমির মালিকানা স্বর্ত আপেক্ষে প্রাপ্য হবেন।

পয়স্তিঃ নদী গর্ভ থেকে পলি মাটির চর পড়ে জমির সৃষ্টি হওয়াকে পয়স্তি বলে।

নাল জমিঃসমতল ০২(দুই) বা ০৩ (তিন) ফসলি আবাদী জমি কে নাল জমি বলে।

দেবোত্তর সম্পত্তিঃহিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির আয়োজন, ব্যবস্থা ও সু-সম্পন্ন করার  ব্যয় ভার নিবার্হের লক্ষে উৎসর্গকৃত জমিকে দেবোত্তর সম্পত্তি বলে।

দাখিলাঃভূমি মালিকের নিকট হতে ভূমি কর আদায় করে যে নির্দিষ্ট ফরমে (ফরম নং-১০৭৭) ভূমি কর আদায়ের প্রমানপত্র বা রশিদ দেওয়া হয় তাকে দাখিলা বলে।

ডি.সি.আরঃভূমি কর ব্যতীত অন্যান্য সরকারী পাওনা আদায় করার পর যে নির্ধারিত ফরমে (ফরম নং-২২২) রশিদ দেওয়া হয় তাকে ডি.সি. আর বলে।

দলিলঃযে কোন লিখিত বিবরনি যা ভবিষ্যতে আদালতে স্বাক্ষ্য হিসিবে গ্রহনযোগ্য তাকে দলিল বলা হয়।তবে রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধান মোতাবেক জমি ক্রেতা এবং বিক্রেতা সম্পত্তি হস্তান্তর করার জন্য যে চুক্তিপত্র সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করেন তাকে সাধারনভাবে দলিল বলে।

কিস্তোয়ারঃভূমি জরিপকালে চতূর্ভূজ ও মোরব্বা প্রস্তুত করার পর সিকনি লাইনে চেইন চালিয়ে সঠিকভাবে খন্ড খন্ড ভূমির বাস্তব ভৌগলিক চিত্র অঙ্কনের মাধ্যমে নক্সা অংককনের মাধ্যমে ন্ক্সা প্রস্তুতের পদ্ধতিকে কিস্তয়ার বলে।

খানাপুরিঃজরিপের সময় মৌজা নক্সা প্রস্তুত করার পর খতিয়ান প্রস্তুতকালে খতিয়ান ফর্মের প্রত্যেকটি কলাম জরিপ কর্মচারী কর্তৃক পূরন করার প্রক্রিয়াকে খানাপুরি বলে।

ছবি



Share with :

Facebook Twitter